1. live@bortomansongbad.com : - : - -
  2. info@www.bortomansongbad.com : - :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

লামায় দেড় দশকের সন্ত্রাস ও বিচারহীনতার বলি এক পরিবার: অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে এক বাঙালি পরিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি অধিকার ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ায় তারা গত প্রায় দেড় দশক ধরে ধারাবাহিক সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে এ ঘটনার সূচনা হয়। সে সময় গিয়াস মাহমুদের বাবা আবুল কালাম সামির স্থানীয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদার দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অপহরণ করা হয়। চারদিন পর মুক্তি পেলেও নির্যাতনের শারীরিক জখম সইতে না পেরে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও তারা বিচার পাননি বলে দাবি করেন।পরবর্তীতে গিয়াস মাহমুদ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় হন এবং একটি ছাত্র সংগঠনের স্থানীয় নেতৃত্বে যুক্ত হন। ২০২১ সালে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করার পর তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।একই বছরের ৩০ আগস্ট তাকে অপহরণ করে কয়েকদিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের দাবি। পরে স্থানীয়ভাবে মধ্যস্থতার মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।গিয়াস মাহমুদকে না পেয়ে তার পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এতে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, গবাদি পশু নিয়ে যাওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের মারধরের ঘটনা ঘটে বলে পরিবারটি জানায়। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহায়তা চাইলেও কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি বলে তাদের অভিযোগ।পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারকীয় নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, যাতে পরিবারের এক নারী সদস্য গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং পরবর্তীতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পরিবারটি গভীর ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিটি ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করা হলেও কার্যকর তদন্ত বা বিচার হয়নি। বরং তারা উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে অনেক সময় প্রশাসনের পক্ষে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।বর্তমানে গিয়াস মাহমুদ আত্মগোপনে রয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, এখনো হুমকি অব্যাহত রয়েছে, ফলে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।উপসংহার:লামার এই ঘটনা পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকট, চাঁদাবাজি এবং বিচারহীনতার অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট